ভাব সম্প্রসারণঃ বিশ্বজগৎ আমারে মাগিলে কে মোর আত্মপর! আমার বিধাতা আমাতে জাগিলে কোথায় আমার ঘর!

One Time School

আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমাদের পোস্টটি সাজানো হয়েছে ভাব সম্প্রসারণ লিখার সুন্দর সুন্দর নিয়ম নিয়ে। আপনি কি কিভাবে ভাব সম্প্রসারণ লিখতে হবে এটা নিয়ে চিন্তিত? কিভাবে ভাব সম্প্রসারণ লিখলে আপনার লেখাটা অনেক পারফেক্ট হবে এটা ভাবছেন? আপনি কি ভাব সম্প্রসারণ লিখে স্যারকে সন্তুষ্ট করে ভালো মার্কস পেতে চান? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছেছেন।

আর এই পোস্টটি আপনার উপকারী হতে পারে। কেননা আমাদের আজকের পোস্টটি সাজানো হয়েছে ভাব সম্প্রসারনের মাধ্যমে। এখান থেকে যদি আপনি ভাব সম্প্রসারণের নিয়ম শিখতে চান, তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করতে পারেন। আশা করি এখান থেকে আপনি অনেক সুন্দর সুন্দর ভাব সম্প্রসারণ এর নিয়ম পেয়ে যাবেন।

আপনারা যারা শিক্ষার উপর বিভিন্ন তথ্য খুজতেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি তারা অবশ্যই আমাদের এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এখানে শিক্ষার উপর সমসাময়িক তথ্য প্রচার করা হয়ে থাকে। আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন বিষয়ের উপর আলোচনা করে থাকি। আজ আমরা বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ব্যাকরণ অংশের আরো একটি ভাব সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করব। আজকে যে ভাব সম্প্রসারণ চিনি আলোচনা করব সেটি অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী একটি ভাব সম্প্রসারণ। আজকের ভাব-সম্প্রসারণটি নিম্নে আলোচনা করা হল:

ভাবসম্প্রসারণ তালিকা

আরো এড করা হবে…..

ভাব সম্প্রসারণ: বিশ্বজগৎ আমারে মাগিলে কে মোর আত্মপর/ আমার বিধাতা আমাতে জাগিলে কোথায় আমার ঘর

মূলভাব: মানুষের আত্মাতেই অবস্থান করেন তার স্রষ্টা; সেই স্রষ্টার সাক্ষাৎ পেলে পৃথিবীর পরিভ্রমণ তার আর প্রয়োজন হয় না। বিশ্বচরাচরে তখন সেই মানুষ হয়ে ওঠে সর্বজনীন। আত্মপরের সকল ভেদ তার ঘুচে যায়।

সম্প্রসারিত ভাব: পৃথিবীর সকল ধর্ম গ্রন্থে মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সম্মান দেওয়া হয়েছে। কারণ মানুষই তার বিবেকের অধিকারী; মানুষের মধ্যে যে বিবেক এবং বুদ্ধি আছে আর কোন জীবের সেই শক্তি বা সামর্থ্য নেই। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেইজন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”-জীব অর্থে পৃথিবীর সকল জীব; যার মধ্যে মানুষ অগ্রগণ্য। অর্থাৎ মানুষের সেবাই ঈশ্বরের সেবা, মানুষের ভিতরে মানুষ করিতেছে বিরাজমান। অর্থাৎ মানুষই ঈশ্বরকে ভেতরে ধারণ করেছে; তাই তাকে ভজন করলে, ঈশ্বরকেই ভজন করা হয়।

মানুষ নিজের ভেতরে এই ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারেন এবং তার উদ্বোধন ঘটাতে পারেন, তিনি আত্মার প্রকৃত রূপের সন্ধান পান। সমস্ত পৃথিবী তখন তার বসবাসের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। কোন একটি নির্দিষ্ট ঘরে তিনি মনকে নিবৃত্ত করতে পারেন না। মানুষের মধ্যে নিজের আত্মবোধকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন তিনি। এরকম মানুষ হয়ে ওঠেন সর্বজনীন।

কোনো বিশেষ কুল বা সমাজের অংশ হয়ে তিনি আর থাকতে পারেন না। মানুষের সকল অনুভূতিকে তিনি নিজের মধ্যে ধারণ করেন এবং নিজের অনুভূতিকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেন। বিশ্ব চরাচরে তার অবস্থান হয়ে ওঠে সর্বত্র; সবাই হয়ে যায় তার আত্মার আত্মীয়। এমন মানুষের গ্রহণযোগ্যতা কোনো বিশেষ সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

সমস্ত বিশ্বকে তারা একটি সমাজের মধ্যে আত্মীকৃত করে বিশ্ব মানব সমাজ ও বিশ্বাত্মবোধের ধারণা দেন। পৃথিবীর পাঠে ইতিহাসের খাতায় এমন মানুষের নজির মিলবে বহুভাবে, বহু স্থানে। বিশ্বের সকল ধর্মের ধর্মপ্রচারক এ বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করতে পেরেছিলেন। এছাড়া যে মহাত্মা দের আমরা সর্বসময় এর স্মরণীয় বলে মনে করি তারাও এই বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছেন। বিশ্বজগতের সবাই তাদের আত্মীর আত্মীয় হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য: যে মানুষ আত্মবোধ এ বিধাতাকে অনুভব করেন তিনি আর ব্যক্তি হিসেবে কোন এক স্থানে সীমাবদ্ধ থাকেনা সমস্ত বিষয় তার আবাসস্থল হয়ে ওঠে কারণ বিধাতার স্পর্শ অনুভব করে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বময় মানুষ।

উপরের যে ভাব সম্প্রসারণ টি নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করলাম সেটি আপনাদের অবশ্যই ভালো লাগবে। আমরা চেষ্টা করেছি ভাব-সম্প্রসারণ টি সহজ এবং সুন্দর ভাষায় উপস্থাপনা করার। আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে চেষ্টা করি আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্যগুলোকে সাজানোর। আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট বেশি বেশি করে ভিজিট করুন এবং সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনারা সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন। সবাইকে ধন্যবাদ আমাদের এই ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য।

ভাব সম্প্রসারণঃ বিশ্বজগৎ আমারে মাগিলে কে মোর আত্মপর! আমার বিধাতা আমাতে জাগিলে কোথায় আমার ঘর!

Leave a Comment